গণিতের প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা মালা , সকল পরিক্ষায় প্রয়োজন
১। অঙ্ক কি ? উঃ হিসাবনিকাশ ও গণনা কাজে যে সকল প্রতীক বা চিহ্ন ব্যবহৃত হয় , তাকে অঙ্ক বলে।যেমন ঃ ০,১,২,৩......৯।
২। সংখ্যা কি ? উঃ এক বা একাধিক অংক মিলে সংখ্যা তৈরী হয়। যেমন ঃ ১,১১,২৩,১১১ ইত্যাদি।
৩। স্বকীয় মান কি ? উঃ কোন সংখ্যায় ব্যবহৃত অঙ্কগুলোর মান তার অবস্থানের উপর নির্ভর করে । কোন সার্থক অঙ্ক আলাদাভাবে লিখলে যে সংখ্যা প্রকাশ করে, তা অঙ্কের স্বকীয় মান।
৪।স্থানীয় মান কি ? উঃ কয়েকটি অঙ্ক পাশাপাশি লিখলে কোন সার্থক অঙ্ক তার অবস্থানের জন্য যে সংখ্যা প্রকাশ করে, তাকে ঐ অঙ্কের স্থানীয় মান বলে।
৫। যুগ্ম / জোড় সংখ্যা কাকে বলে ? উঃ যে সকল সংখ্যা ২ দ¦ারা নিঃশেষে বিভাজ্য তাদের যুগ্ম বা জোড় সংখ্যা বলে। যেমন ঃ ৪, ৮, ১০, ১২ ইত্যাদি।
৬। অযুগ্ম / বিজোড় সংখ্যা কাকে বলে ? উঃ যে সকল সংখ্যা ২ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য নয় তাদের অযুগ্ম বা বিজোড় সংখ্যা বলে। যেমন ঃ ৩, ৫, ৭, ১৩ ইত্যাদি।
৭। গুণনীয়ক কী/ গুণিতক কী ? উঃ একটি সংখ্যা দ্বারা অপর একটি সংখ্যা নিঃশেষে বিভাজ্য হলে, দ্বিতীয় সংখ্যাটিকে প্রথম সংখ্যার গুণনীয়ক বা উৎপাদক বলে। প্রথম সংখ্যাটিকে দ্বিতীয় সংখ্যাটির একটি গুণিতক বলা হয়।
৮। মৌলিক সংখ্যাক কাকে বলে ? উঃ ১ হতে বৃহত্তর যে সকল সংখ্যার ১ ও ঐ সংখ্যা ছাড়া অপর কোনো গুণিয়ক থাকে না, তাদের মৌলিক সংখ্যা বলে।
৯। কৃত্রিম সংখ্যা কাকে বলে ? উঃ যেসব সংখ্যার ১ এবং ঐ সংখ্যা ছাড়াও অন্য গুণিনীয়ক থাকে, তাদেও কৃত্রিম সংখ্যা বলে।
১০। সহমৌলিক সংখ্যা কাকে বলে ? উঃ দুই বা ততোধিক সংখ্যার সাধারণ গুণিনীক (উৎপাদক) কেবলমাত্র ১ হলে, ঐ সংখ্যাগুলো পরস্পর সহমৌলিক।
১১। মুলদ সংখ্যা কী ? উঃ যে সকল সংখ্যাকে স্বাভাবিক সংখ্যা দ্বারা ভগ্নাংশ গঠন করে ক/খ ( যেখানে ক ও খ স্বাভাবিক সংখ্যা) আকারে প্রকাশ কর যায়, সেই সকল সংখ্যাকে মুলদ সংখ্যা বলে ।
১২। অমুলদ সংখ্যা কী ? উঃ যে সকল সংখ্যাকে ক/খ আকারের ভগ্নাংশরুপে প্রকাশ করা যায় না, সেগুলো অমুলদ সংখ্যা।(পূর্ণবর্গ নয় এমন যে কোন স্বাভাবিক সংখ্যার বর্গমূল অমূলদ সংখ্যা। যেমনঃ √৩ , √২, √৫
১৩। গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক (গ.সা.গু) কী ? উঃ প্রদত্ত রাশিগুলোর কয়েকটি সাধারণ গুণনীয়ক বা উৎপাদন থাকলে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় গুণনীয়কটিকে প্রদত্ত রাশ্মিগুলোর গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক বলে।
১৪। লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণিতক (ল.সা.গু.) কী ? উঃ প্রদত্ত সংখ্যাগুলোর ক্ষুদ্রতম সাধারণ গুণিতককে তাদের লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণিতক বলা হয়।
১৫। প্রকৃত ভগ্নাংশ কী ? উঃ যে ভগ্নাংশের হর লবের চেয়ে বড়, তা অপ্রকৃত ভগ্নাংশ। যেমনঃ ৫/২১,৩/৭ ইত্যাদি।
১৬। অপ্রকৃত ভগ্নাংশ কী ? উঃ যে সকল ভগ্নাংশের হর লবের চেয়ে ছোট,তা অপ্রকৃত ভগ্নাংশ। যেমনঃ ২১/৫,৯/৭
১৭। বিপরীত ভগ্নাংশ কী ? উঃ কোন ভগ্নাংশের লবকে হর ও হরকে লব করলে যে ভগ্নাংশ পাওয়া যায়, তাকে প্রথমোক্ত ভগ্নাংশের বিপরীত ভগ্নাংশ বলা হয়। যেমনঃ ক/খ এর বিপরীত ভগ্নাংশ খ/ক ।
১৮। বর্গ ও বর্গমূল কী? উঃ কোন সংখ্যাকে একই সংখ্যা দ্বারা গুণ করলে যে সংখ্যা পাওয়া যায় , তাকে ঐ সংখ্যার বর্গ বলে এবং গুণফলের বর্গমূল বলে।
১৯। পূণ বর্গসংখ্যা কী ? উঃ যে সকল সংখ্যার বর্গমূল কোন পূর্ণ সংখ্যা বা ভগ্নাংশের সমান , তাকে পূর্ণবর্গ বলা হয়।
২০। গড় কাকে বলে ? উঃ একজাতীয় কতিপয় রাশির সমষ্টিকে উক্ত রাশিগুলোর মোট সংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যায় , তাকে রাশিগুলোর গড় বলে।
২১। অনুপাত কী ? উঃ দুইটি একজাতীয় রাশির একটি অপরটির তুলনায় কতগুণ বা কত অংশ তা একটি ভগ্নাংশ আকারে প্রকাশ করা যায় । এই ভগ্নাংশকে রাশি দুইটির অনুপাত বলা হয়।
২২। সরল অনুপাত কী ? উঃ অনুপাতে দুইটি রাশি থাকলে তাকে সরল অনুপাত বলে।
২৩। লঘু অনুপাত কী ? উঃ পূব রাশি উত্তর রাশির চেয়ে ছোট হলে তাকে লঘু অনুপাত বলে। যেমনঃ ২ ঃ ৫
২৪। গুরু অনুপাত কী ? পূব রাশি উত্তর রাশির চেয়ে বড় হলে তাকে গুরু অনুপাত বলে। যেমনঃ ৫ ঃ ২
২৫। একানুপাত কী ? উঃ পূবরাশি উত্তর রাশি পরস্পর সমান হলে , তাকে একানুপাত বলে। যেমনঃ ২ ঃ ২
২৬। ব্যস্ত অনুপাত কী ? উঃ সরল অনুপাতের উত্তর রাশিকে পূর্ব রাশি এবং পূর্ব রাশিকে উত্তর রাশি ধরে প্রাপ্ত অনুপাতকে সরল অনুপাতটির ব্যস্ত অনুপাত বলে। যেমনঃ ৩ ঃ ৪ এর ব্যস্ত অনুপাত ৪ ঃ ৩ ।
২৭। মিশ্র বা যৌগিক অনুপাত কী ? উঃ একাধিক সরল অনুপাতের পূর্ব রাশিগুলোর গুণফলকে পূর্ব রাশি ও উত্তর রাশিগুলোর গুণফলকে উত্তর রাশি ধরে যে অনুপাত হয় , উহাকে মিশ্র অনুপাত বলা হয়।
২৮। দ্বিগুণানুপাত কী ? উত্তরঃ কোন সরল অনুপাতের পূর্ব রাশির বর্গকে পূর্ব রাশি এবং উত্তর রাশির বর্গকে উত্তর রাশি ধরে প্রাপ্ত অনুপাতকে প্রদত্ত অনুপাতের দ্বিগুণানুপাত বলে। যেমন ঃ ৩২ ঃ ২২ = ৯ ঃ ৪ ।
২৮। দ্বিভাজিত অনুপাত কী ? উঃ কোন সরল অনুপাতের পূর্ব রাশির বর্গমূলকে পূর্ব রাশি এবং উত্তর রাশির বর্গমূলকে উত্তর রাশি ধরে প্রাপ্ত অনুপাতকে প্রদত্ত অনুপাতের দ্বিভাজিত অনুপাত বলে। যেমন ঃ √১৬ ঃ √৯ = ৪ ঃ ৩
২৯। ধারাবাহিক অনুপাত কী ? উঃ দুইটি অনুপাত ক ঃ খ এবং খ ঃ গ হলে , তাদের সাধারণত ক ঃ খ ঃ গ আকারে লেখা যায় । একে ধারাবাহিক অনুপাত বলে ।
৩০। সমানুপাত কী ? উঃ ৪ টি রাশির প্রথম ও দ্বিতীয়টির অনুপাত এবং তৃতীয় ও চতুর্থটির অনুপাত পরস্পর সমান হলে ঐ চারটি রাশি একটি সমানুপাত উৎপন্ন করে।
বাঃ সমানুপাতের চারটি রাশিকে সমানুপাতী বলে।
বাঃ সমানুপাতের চতুর্থ রাশিকে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাশির চতুর্থ সমানুপাতী বলে।
বাঃ সমানুপাতের, ১ম রাশি দ্ধ ৪থ রাশি = ২য় রাশি দ্ধ ৩য় রাশি।
৩১। ক্রমিক সমানুপাত কী ? উঃ তিনটি প্রদত্ত রাশির প্রথম ও দ্বিতীয়টির অনুপাত এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়টির অনুপাত পরস্পর সমান হলে, সমানুপাতটিকে ক্রমিক সমানুপাত বলে।
যেমনঃ মনে করি তিনটি রাশি যথাক্রমে ৪ কেজি, ৮ কেজি, ১৬ কেজি। এরাশিগুলোর দ্বারা দুটি অনুপাত ৪ ঃ ৮ এবং ৮ ঃ ১৬ গঠন করা যায়। এখানে ৪ ঃ ৮ = ৮ ঃ ১৬।
৩২। প্রকৃত গতিবেগ কাকে বলে? উঃ স্থিও পানিতে নৌকার গতিবেগ হল নৌকার প্রকৃত গতিবেগ।
৩৩। কার্যকরী গতিবেগ কাকে বলে? উঃ ¯্রােতস্বিনী নদীর ¯্রােতের অনুকূলে বা প্রতিকূলে নৌকা যে গতিবেগে চলে তাকে নৌকার কার্যকরী গতিবেগ বলা হয়।
¯্রােতের অনুকূলে নৌকার কার্যকরী গতিবেগ = নৌকার প্রকৃত গতিবেগ + ¯্রােতের গতিবেগ।
¯্রােতের প্রতিকূলে নৌকার কার্যকরী গতিবেগ = নৌকার প্রকৃত গতিবেগ + ¯্রােতের গতিবেগ।
৩৪। আপেক্ষিক বেগ কাকে বলে ? উঃ যখন দুইটি গাড়ি / ট্রেন পরস্পর বিপরীত দিগে চলে , তখন তাদেও আপেক্ষিক বেগ তাদের গতিবেগের সমষ্টির সমান।
৩৫। সুদকষা কী? উঃ যে প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট পরিমানের টাকা নির্দিষ্ট সময়ের সুদ নির্ণয় করা যায় , তাকে সুদকষা বলে।
৩৬। আসল বা মুলধন কী ? উঃ যে টাকা গচ্ছিত রাখা হয় বা ধার দেয়া হয় বা খাটানো হয় , তাই আসল বা মুলধন।
৩৭। সুদ কী ? উঃ টাকা খাটানোর জন্য বিনিয়োগকারী প্রতি বছর কিছু অতিরিক্ত টাকা পায় তাকে সুদ বলে।
৩৮। সুদাসল কী ? উঃ সুদ ও আসলের টাকাকে একত্রে সুদাসল বা সুদ-মুল বা সবৃদ্ধিমুল বলে।
৩৯। সুদের হার কাকে বলে? উঃ কোন নিদিষ্ট টাকার উপর কোন নিদিষ্ট সময়ের জন্য যে সুদ দেওয়া হয় তাকে সুদের হার বলে।
৪০। সরল সুদ কী ? উঃ সরল সুদে,প্রত্যক বছরের জন্য সুদ দেওয়া হয় কিন্তু তা আসলের সাথে যোগ করা হয় না।
৪১। চক্রবৃদ্ধি সুদ কী ? উঃ চক্রবৃদ্ধি সুদে , প্রত্যেক বছর আসলের সাথে সুদ যোগ করা হয় । চক্রবিদ্ধি সুদে তাই প্রত্যেক বছর আসল বৃদ্ধি পায়।
৪২। পরিসংখ্যান কাকে বলে ? উঃ পরিসংখ্যান হল ব্যবহারিক গণিতের একটি শাখা যা সংখ্যাত্মক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে প্রয়োগ করা হয়।
৪৩। উপাত্ত কী? উঃ সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে উপাত্ত বলে।
৪৪। কেন্দ্রিকতা বা মধ্যক কী ? উঃ অধিকাংশ উপাত্তের মান মোটামুুটি ভাবে মাঝামাঝি অবস্থানে সংঘবদ্ধ হওয়ায় প্রবণতাকে কেন্দ্রিকতা বলে।
৪৫। প্রচরক কী ? উঃ উপাত্তের মধ্যে যে সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি বার থাকে , তাকে প্রচরক বলা হয়।
আমাদের ওয়েব সাইট টা একবার ঘুরে দেখুন, (জানতে হলে পড়তে হবে)


No comments:
Post a Comment